September 16, 2026, 9:15 pm
Headline :
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় ​মার্কিন নতুন শুল্ক নীতিতে বাংলাদেশের বড় সুবিধা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৮০০ পার, আক্রান্ত লাখ ছাড়াল ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: ৮০% কাজ শেষে ব্যয় বাড়ল ৫৪% ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুমকি: গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা, ব্যারিকেড মুক্ত ছাত্রত্ব শেষ: শিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ ৯ নেত বৃষ্টি ও বন্যায় লণ্ডভণ্ড ৭ জেলা: প্রাণহানি বেড়ে ৫১, পানিবন্দি পৌনে ৩ লাখ পরিবার চট্টগ্রাম বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ভোগান্তি বাড়ছে চট্টগ্রাম বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ভোগান্তি বাড়ছে

২২ লাখ টাকা খুইয়ে লিবিয়ায় নিখোঁজ হেমায়েত, দালালের বিরুদ্ধে মামলা

মিজানুর রহমান

কুমিল্লার ফোকাসঃইতালি গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন হেমায়েত মোল্লা (২৮)। স্বপ্নপূরণে পরিবারের শেষ সম্বল জমি বিক্রি, ধার-দেনা ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করে দালাল চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২২ লাখ ৭৩ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু ইতালির বদলে তাকে পাঠানো হয় লিবিয়ায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ হেমায়েত। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন জানে না পরিবার।
হেমায়েত মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্বরাস্তি গ্রামের মতিন মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় তার ভাই বেলায়েত মোল্লা মানবপাচারকারী দালাল চক্রের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ গ্রামের হেদায়েত লস্কর, আলো বেগম, মোতালেব লস্কর এবং ঝিকরহাটি গ্রামের আজাদ দর্জি ও পলি আক্তার। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হেমায়েতকে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। স্বপ্ন দেখিয়ে তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে নগদ অর্থ, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও বিকাশের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিবারের কাছ থেকে ২২ লাখ ৭৩ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। বরং লিবিয়ায় নেওয়ার পর থেকেই হেমায়েতের সঙ্গে পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের অভিযোগ, পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত অন্য কয়েকজন দালালের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, হেমায়েতকে সেখানে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। সেখানেই মারা গেছে হেমায়েত। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি।
বেলায়েত মোল্লা বলেন, “আমার ভাইকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ২২ লাখের বেশি টাকা নিয়েছে। এখন সে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, সেটাও জানি না। আমরা শুধু আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই এবং যারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম সুজন বলেন, “দালাল চক্র গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ সর্বস্ব হারাচ্ছে, কেউ প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।”
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, “মাদারীপুর মানবপাচারপ্রবণ জেলা। এ ধরনের অপরাধ রোধে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”