ডেস্ক রিপোর্ট:
ইরানে কঠোর সামরিক আঘাত অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, মার্কিন বাহিনী খুব শিগগিরই দেশটির অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (পিকঅ্যাক্স পর্বত) ধ্বংস করে দেবে।
সোমবার ‘হিউ হিউইট শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন গুঁড়িয়ে দিতে যাচ্ছি। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলো।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “আজ রাতে এবং আগামীকাল আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত মারাত্মক হামলা চালাতে যাচ্ছি। আর এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো বিন্দুমাত্র ক্ষমতাও তাদের নেই।”
পারমাণবিক সুরক্ষার ‘ঢাল’ ধ্বংসের হুমকি
তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত এই অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি শত শত মিটার পুরু নিরেট গ্রানাইট পাথরের নিচে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাংকার ধ্বংসকারী বোমারও নাগালের বাইরে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ইরান সেখানে সম্পূর্ণ অঘোষিত একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ‘কৌশলগত সুরক্ষা ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে।
টানা তিন দিন মার্কিন বোমাবর্ষণ: রণক্ষেত্র পারস্য উপসাগর
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে টানা তৃতীয় রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং নৌবাহিনীর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাস ও জাম এলাকায় একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিশ দ্বীপের বন্দরে তিনটি বোটে আগুন লাগার পাশাপাশি ওমিদিয়েহ শহরে মার্কিন হামলায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নৌ-অবরোধ ও চুক্তির বার্তা
ট্রাম্প নতুন করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্দিষ্ট মাশুলের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথাও জানান তিনি। তবে চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও কূটনীতির পথ খোলা রেখে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন হামলা ও অবরোধ অব্যাহত রাখলেও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো “অবশ্যই সম্ভব”।