September 16, 2026, 10:27 pm
Headline :
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় ​মার্কিন নতুন শুল্ক নীতিতে বাংলাদেশের বড় সুবিধা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৮০০ পার, আক্রান্ত লাখ ছাড়াল ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: ৮০% কাজ শেষে ব্যয় বাড়ল ৫৪% ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুমকি: গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা, ব্যারিকেড মুক্ত ছাত্রত্ব শেষ: শিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ ৯ নেত বৃষ্টি ও বন্যায় লণ্ডভণ্ড ৭ জেলা: প্রাণহানি বেড়ে ৫১, পানিবন্দি পৌনে ৩ লাখ পরিবার চট্টগ্রাম বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ভোগান্তি বাড়ছে চট্টগ্রাম বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ভোগান্তি বাড়ছে

ইরানে দ্বিতীয় দফায় রাতভর মার্কিন হামলা: সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা

মো:মিজানুর রহমান

দৈনিক কুমিল্লা ফোকাস ঢাকা, ২৮ জুন ২০২৬ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে রাতভর ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আবারও একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
​শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী ধারাবাহিক হামলা-পাল্টা হামলায় সেই ঐতিহাসিক সমঝোতা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
​সেন্টকমের বক্তব্য ও হামলার লক্ষ্যবস্তু
​মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই এই সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান।
​সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
​সামরিক নজরদারি অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা
​আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
​ড্রোন সংরক্ষণাগার
​সাগরে মাইন স্থাপনের সক্ষমতা
​যেখানে যেখানে বিস্ফোরণ
​আল জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামের আশপাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত শুক্রবারও একই এলাকায় মার্কিন হামলা হয়েছিল। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
​ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
​হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ইরান যদি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণ না করে, তবে পরিস্থিতি বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে ট্রাম্প লেখেন:
​”ইরান কখনোই শিক্ষা নেবে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর ধৈর্য ধরতে পারব না। আমরা যে অভিযান সফলভাবে শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে শেষ করতে বাধ্য হব। এমন হলে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”
​তবে ইরানও পাল্টা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের একই অভিযোগ এনেছে।
​হামলার সূত্রপাত যেখান থেকে
​এর আগে শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেন্টকম জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল এবং এটি মূলত একটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো নাবিক আহত হননি এবং তেলেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
​জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক ডটকম জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি গত বৃহস্পতিবার আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আজ রোববার (২৮ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে এটি পৌঁছানোর কথা ছিল। এই ঘটনার পরই মূলত যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফায় ইরানে এই বিমান হামলা চালায়।

Oplus_131072