ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৬: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পাহাড় ধসে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৭টি জেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দুর্গত এলাকাগুলোতে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও জেলাভিত্তিক পরিস্থিতি
সরকারি তথ্যমতে, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৮টি উপজেলার ৩৯৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এখন পানির নিচে। বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ছাড়িয়েছে।
কক্সবাজার: বন্যায় ও পাহাড় ধসে জেলাটিতে সর্বোচ্চ ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (যার মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা)। এখনও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১০টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ এখানে পানিবন্দি।
চট্টগ্রাম: বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের আংশিক এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলায় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পার্বত্য অঞ্চল (বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি): বান্দরবানে পাহাড় ধস ও বন্যায় ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলা প্লাবিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
সিলেট অঞ্চল (মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ): মৌলভীবাজারে বন্যায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে হবিগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্র ও সরকারি ত্রাণ তৎপরতা
দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। গত ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে সাধারণ ও বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত প্রধান ৭টি জেলার জন্যই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩,২৫০ টন চাল। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা ও ১২০০ টন চাল পেয়েছে চট্টগ্রাম। এছাড়া উপদ্রুত এলাকায় শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।