[caption id="attachment_437" align="alignnone" width="300"]
এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, জনজীবন স্থবির[/caption]
কুমিল্লার ফোকাসঃ এক ঘণ্টার অতিভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া ৯১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আকস্মিক এই জলজটে হাঁটু সমান পানি জমে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে, যার ফলে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নগরীর স্বাভাবিক জনজীবন।
কুমিল্লা জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এটি চলতি মৌসুমে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। আবহাওয়া কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, মাত্র এক ঘণ্টায় ৯১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত অতিভারী বর্ষণের পর্যায়ে পড়ে। এই বৃষ্টিপাত মূলত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকাকেন্দ্রিক ছিল। শহরের বাইরে বৃষ্টি হলেও এমন তীব্রতা দেখা যায়নি।
জলমগ্ন প্রধান সড়ক, বিকল যানবাহন
বৃষ্টির পরপরই নগরীর কান্দিরপাড়, মনোহরপুর, টমছম ব্রিজ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সড়ক, রাজগঞ্জ থেকে চকবাজার, ঝাউতলা, শাসনগাছা, বাগিচাগাঁও, ঠাকুরপাড়া, পুলিশ লাইনস ও হাউজিং এস্টেটসহ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে সড়কের ওপর হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। পানির মধ্যে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অসংখ্য যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। অফিস শেষে ঘরে ফেরা মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
হাসপাতালে পানি, রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। হাসপাতালের বিভিন্ন সড়ক, ওয়ার্ডের সামনের অংশ এবং বহির্বিভাগের আশপাশে পানি জমে রোগী ও স্বজনদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের অনেককে নোংরা পানি মাড়িয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এমনকি হাসপাতালের নিচতলার বিভিন্ন অংশেও পানি প্রবেশ করে। ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ—সামান্য বৃষ্টিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো সমাধান করছে না।
ডুবল শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পায়নি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এলাকাও। শিক্ষা বোর্ড চত্বর ও সংলগ্ন সড়কে পানি জমে রীতিমতো জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা জিলা স্কুল, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি শাখা, সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ এবং প্রবেশপথ পানিতে তলিয়ে যায়।
বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতি
নগরীর বহু বাসাবাড়ির নিচতলা, গ্যারেজ ও রান্নাঘরে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নিচু এলাকাগুলোর অনেক পরিবারকে বালতি ও পাম্প দিয়ে পানি সেচতে দেখা গেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।
ক্ষুব্ধ নগরবাসী
নগরবাসীর অভিযোগ—অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও প্রাকৃতিক জলাধার দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ার কারণেই সামান্য সময়ের ভারী বর্ষণেও কুমিল্লা শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। অনেক স্থানে ড্রেনের পানি উপচে সড়কে উঠে আসে এবং পানি নামার পথ না থাকায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাতভর মাঝারি থেকে ভারী মাত্রার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত আর কোনো অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস নেই।