[caption id="attachment_403" align="alignnone" width="300"]
Oplus_131072[/caption]
কোলাহলময় যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি মুছে ক্ষণিকের প্রশান্তি পেতে চাইলে কুমিল্লার বুক চিরে জেগে থাকা ঐতিহাসিক ধর্মসাগর দীঘি ও এর উত্তর পাড়ের শিশু পার্কের কোনো বিকল্প নেই। সাড়ে পাঁচশত বছরের পুরোনো ইতিহাস আর আধুনিক বিনোদনের এক অপূর্ব মিতালী গড়ে উঠেছে এখানে।
ইতিহাসের শীতল ছোঁয়া
১৪৫৮ সালে ত্রিপুরার মহারাজা ধর্ম মাণিক্যের জনকল্যাণমূলক দূরদর্শিতার প্রমাণ এই বিশাল ধর্মসাগর দীঘি। কালের আবর্তে এই দীঘির উত্তর পাড়ের ছায়াবৃত সবুজ চত্বরে ১৯৮০-এর দশকে গড়ে ওঠে কুমিল্লা শিশু পার্ক। শতবর্ষী বিশাল সব গাছের সারি এখানে যেন এক সবুজ ছাতা তৈরি করে রেখেছে। দীঘির বুক চিরে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া মুহূর্তেই দর্শনার্থীদের মন ভালো করে দেয়।
বিনোদন ও শৈশবের আনন্দ মেলা
পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৫:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে। কোনো প্রবেশ মূল্য না থাকায় প্রতিদিন ভোরে ও বিকেলে এখানে ভিড় করেন শত শত স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ। অন্যদিকে, শিশুদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। মাত্র ৩০ টাকার বিনিময়ে ছোট ট্রেন, নাগরদোলা ও জাম্পিং রাইডে চড়ে মেতে ওঠে শিশুরা। আর বিকেলে শান্ত দীঘির জলে প্যাডেল বোটে চড়ে নৌভ্রমণের আনন্দ যেন পুরো ভ্রমণের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
সংস্কৃতির আঙিনায়
পার্কের উত্তর কোণে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ‘রাণীর কুঠির’। এছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত নানা স্থান এই অঞ্চলটিকে দিয়েছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মর্যাদা। একদিকে জিলা স্কুল আর অন্যদিকে কুমিল্লা স্টেডিয়াম বেষ্টিত এই পুরো এলাকাটি যেন কুমিল্লার প্রাণকেন্দ্র।
সবুজ প্রকৃতি, ইতিহাসের ছোঁয়া আর দীঘির শান্ত জল—সব মিলিয়ে ধর্মসাগর ও শিশু পার্কটি প্রতিটি নাগরিকের মনে এক টুকরো নির্মল আনন্দ ও প্রশান্তি বিলিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
মোঃ মিজানুর রহমান প্রতিবেদক কুমিল্লার ফোকাস